বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিনিধি : বছর ঘুরে মুমিনের হৃদয় আলোকিত করে, আবার এলো পবিত্র রমজান মাস। একজন মুমিন মুসলমান রমজান মাস কিভাবে কাটাবে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
১, রোজা রাখা বা সিয়াম পালন করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপরে রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনি ভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।
২, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করা এবং রাতে তারাবি নামাজ 20 রাকাত আদায় করা। হাদিস শরীফে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা পালন করবে এবং রাতে সালাত আদায় করবে বিশেষ করে তারাবি সালাত তার পিছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
৩, কোরআন তেলাওয়াত করা। সম্ভব হলে বুঝে তেলাওয়াত করা। আল্লাহতায়ালা কুরআনের এরশাদ করেন রমজান মাস যাতে আমি নাযিল করেছি আল কোরআন এটি মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক এবং সত্য মিথ্যা পার্থক্যকারী যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে সে যেন রোজা পালন করে।
৪, বাড়ির কাজের মানুষের কাজ হালকা করে দেওয়া। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি রমজান মাসে বাড়ির কাজের মানুষের কাজ হালকা করে দিবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিচার সহজ করবেন।
৫, চোখ জিহ্বা ও কানের হিফাজত করা। চোখ দ্বারা অশ্লীল ছবি ভিডিও না দেখা। কান দ্বারা গান মিউজিক ইত্যাদি না শোনা। জিহবা দ্বারা কোন মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা ও পরচর্চা না করা।
৬, খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকা। সংযম ও আত্মশুদ্ধি লাভের জন্য খাদ্য গ্রহণে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
৭, রোজাদারদের ইফতার করানো। হাদীস শরীফে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে চাই একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানি দ্বারা তাকে একটা কবুল রোজার সমতূল্য নেকী দান করা হবে।
৮, দিনের বেলায় খাবার হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার মাধ্যমে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা।
৯, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা।
১০, দৈনিক কমপক্ষে একশত বার তওবা ইস্তেগফার করা।
১১, তাহাজ্জুদ নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন।আমীন।
লেখক : হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হালীম আযহারী। খতীব, আল হেরা জামে মসজিদ, পূর্ব শেখদি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।