রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ দাবি; স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন ও নেতৃত্বের দর্শন তুলে ধরলেন ঘনিষ্ঠ সহচর অধ্যাপক আরিফ মঈনউদ্দীন
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট, চট্টগ্রাম, ৩১ মে :
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর অধ্যাপক আরিফ মঈনউদ্দীনের স্মৃতিচারণ নতুন করে আলোচনায় এনেছে জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর হত্যাকাণ্ড ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে।
অধ্যাপক আরিফ মঈনউদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর ভাষায়, “আমার কাছে কেউ বিশেষ ঘনিষ্ঠ নয়, প্রত্যেককে তার মেধার ভিত্তিতে বিবেচনা করি।” চট্টগ্রাম সফরের সময় জিয়ার সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে শোনা এই বক্তব্যকে তিনি জিয়ার রাজনৈতিক চরিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটি আত্মনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই তিনি কাজ করছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, একদিন খাদ্য রপ্তানিকারক দেশেও পরিণত হতে পারবে।
অধ্যাপক আরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম সফরের সময়ও রাষ্ট্রপতি জিয়া দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সফরের শেষ রাতে তিনি আরিফ মঈনউদ্দীনকে ফোনের কাছে থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেছিলেন, পরে আবার যোগাযোগ করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। কয়েক ঘণ্টা পর আসে তাঁর হত্যার সংবাদ।
তিনি দাবি করেন, জিয়ার হত্যাকাণ্ড ছিল কেবল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের বিদ্রোহ নয়; বরং এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তবে সেই ষড়যন্ত্রের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা ও উদ্দেশ্য আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আরিফ আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা ও নির্লোভ। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি বিলাসিতাকে এড়িয়ে চলতেন এবং রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহারে সতর্ক ছিলেন। তাঁর মতে, জিয়ার সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, তিনি আরও কয়েক বছর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিপথ ভিন্ন হতে পারত। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, তাঁর শাসনামল নিয়ে বিতর্ক ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রও ইতিহাসে সমানভাবে বিদ্যমান।
তবে চার দশকেরও বেশি সময় পরেও জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, তাঁর হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা জাতীয় আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
সূত্র: বাসস অবলম্বনে সম্পাদিত ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।