1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১১ ইউনিটের প্রাণপণ লড়াই; রোগী-স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি: চট্টগ্রামে পুনরায় আন্দোলনের ডাক, কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ১৬ জন গ্রেফতার। ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসার্স ও ফোর্সদের প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের সম্মাননা প্রদান ডুমুরিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল জুলাই বিপ্লব চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন, বিকেলে সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী সিগারেট, মদ ও নির্মাণসামগ্রীসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে নতুন বাজেটে

নদী দখল, বন উজাড় ও অপরিকল্পিত নগরায়নে পরিবেশ বিপর্যয়: জরুরি পদক্ষেপ দাবি: আব্দুল লতিফ জনি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬৫ বার দেখা হয়েছে

✍️ এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল,ঢাকা: দেশজুড়ে নদী দখল, বনভূমি উজাড়, পাহাড় কাটা এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে “সোসাইটি ফর দি এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট”। সংগঠনটি অবিলম্বে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত প্রায় ১৭ বছরে দেশে দখল ও লুটপাটের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের এক অপ্রতিরোধ্য ধারা তৈরি হয়েছে। পাহাড় কেটে ফেলা, বনভূমি উজাড় করা এবং নদী ভরাটের ফলে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য ভয়াবহভাবে নষ্ট হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব হিসেবে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
নদী ভরাট করে শিল্পায়নের অভিযোগ
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার গোমতী নদীর দাউদকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের অধিকাংশ শাখা নদী ভরাট করে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এসব দখলের অভিযোগ আনা হয়।
সংগঠনটির দাবি, মেঘনা নদী ছাড়া অধিকাংশ শাখা নদী ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং ভবিষ্যতে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
একইভাবে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী, সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতী, ডাকাতিয়া ও নাফ নদীর শাখা নদীগুলোও দখল ও ভরাটের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। সিলেট অঞ্চলের হাওড়সহ ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলোও ইজারার নামে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নদী পুনরুদ্ধার ও খনন প্রকল্প চালুর দাবি
সংগঠনটি নদী, খাল-বিল ও জলাশয় ১৯৫২ সালের ভূমি নকশা অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের দাবি জানায়। একই সঙ্গে অতীতে নেওয়া খাল খনন ও নদী খনন প্রকল্প পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ফেনী অঞ্চলে মুহুরী প্রকল্প ও মুছাপুর ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা সেচ প্রকল্প চালুর ফলে দেশের কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। এসব প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না বলে মত দেয় সংগঠনটি।
আন্তর্জাতিক নদী ইস্যুতে উদ্বেগ
ভারতের ফারাক্কা বাঁধ ও প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধকে বাংলাদেশের নদ-নদীর জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি অভিযোগ করে, আন্তর্জাতিক নদী আইন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় এবং ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা লং মার্চ’-এর উদাহরণ তুলে ধরা হয়।
নগর জলাধার রক্ষা ও হাতিরঝিল মডেল
ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্পকে সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, দখলমুক্ত করে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি জলাধার কীভাবে নগরের পরিবেশ ও যানজট সমস্যায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, হাতিরঝিল তার প্রমাণ।
একইভাবে আশুলিয়া জলাধারসহ রাজধানীর আশপাশের দখল হওয়া জলাশয় উদ্ধার করে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি
বিজ্ঞপ্তিতে তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর শাখা নদী ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বসুন্ধরা গ্রুপ, আমিন মোহাম্মাদ গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ তুলে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীর আবাসন খাতে অনিয়মের অভিযোগ
গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও পূর্বাচল এলাকায় প্লট বরাদ্দ, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং রাজউকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি এসব এলাকার প্লট বরাদ্দ ও ভবন নির্মাণের অনুমোদনের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানায়। এ কমিটিতে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ, রাজউক, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর সম্পৃক্ততার আহ্বান
নদী, বন ও জলাশয় রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি মনে করে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়।
সরকারের প্রতি আহ্বান
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দেশের উর্বর কৃষিজমি, মৎস্য সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com