বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশ নিয়েছে ইরান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর দেশটির খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়—ম্যাচ শেষে একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে তাদের।
এই পরিস্থিতিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে ইরান। ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী বাজানো হয় দুই দলের জাতীয় সংগীত। তখন স্টেডিয়ামে বেজে ওঠে ইরানের জাতীয় সংগীত এবং উড়ানো হয় দেশটির জাতীয় পতাকা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই দৃশ্য বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।
ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই ঘোষণার পরই মাঠে নামে ইরানের ফুটবলাররা।
রোমাঞ্চকর ম্যাচে দারুণ লড়াই করেও জয় পায়নি ইরান। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নিউজিল্যান্ড তাদের ২-২ গোলে রুখে দেয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ইরান দলের সার্বিক প্রস্তুতিতেও। খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও সাপোর্ট স্টাফের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। অন্যদিকে টিকিট ও ভিসা জটিলতায় পড়েছেন বহু ইরানি সমর্থকও।
ম্যাচ চলাকালে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় স্টেডিয়ামের কিছু দর্শক হুটিং করে বিদ্রুপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া খেলার আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পতাকা প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, ইরান সরকারের নীতির প্রতিবাদ জানাতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গ্রুপ পর্বে ইরানের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২২ জুন। একই ভেন্যু লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা।