বিশেষ প্রতিবেদক, দাউদকান্দি, কুমিল্লা : দাউদকান্দির গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটি ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি রায়হান উদ্দিন রেনু মুন্সীকে কোনো ধরনের আলোচনা, পরামর্শ কিংবা সাংগঠনিক মূল্যায়ন ছাড়াই নতুন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শুধু একজন নেতাকে অবমূল্যায়নের ঘটনা নয়, বরং ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের প্রতি সাংগঠনিক অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করছেন তারা।
আরও বিস্ময়কর অভিযোগ হলো, বর্তমান কমিটির সভাপতি হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই মিজানুর রহমানকে অতীতে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন তালুকদার গোয়ালমারী বাজারে প্রকাশ্যে অপমানিত ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিলেন। অথচ সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই ব্যক্তিকে একসময় বহিষ্কার করে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে পুনর্বহাল করার ঘটনায় দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদি কোনো নেতার বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগ সত্য না হয়ে থাকে, তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল? আর যদি অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তাকে পুনরায় সভাপতি করার যৌক্তিকতা কোথায়—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকা পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের বিতর্কিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে দাউদকান্দিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে দলের অভ্যন্তরে বিভাজন ও অসন্তোষ আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, বিতর্কিত কমিটি পুনর্বিবেচনা করে যোগ্য, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে সুসংহত করা হোক।
তাদের ভাষ্য, ‘দল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। বিএনপির শক্তি তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ ও ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে। সেই ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক মূল্য দলকেই দিতে হবে।’