ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সৈন্য প্রত্যাহার ও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলসহ ১২ দফা সমঝোতার তথ্য প্রকাশ
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলে জানা গেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। চুক্তির পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।
যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে যে তারা সমঝোতা স্মারকের ১২টি শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পেয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সব ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা। আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনামূল্যে চলাচল নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আটকে রাখা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে অঞ্চলে থাকা তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে।
এছাড়া ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। আলোচনাকালীন সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির সুযোগ দিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল ও সামুদ্রিক সেবার নিয়মকানুন নির্ধারণে ইরান ও ওমানের মধ্যে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
তবে চ্যানেল-১২-এর প্রকাশিত এই তথ্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: চ্যানেল-১২, ইরান ইন্টারন্যাশনাল