সম্ভাব্য হেডলাইনসমূহ
১. বহিষ্কৃত নেতাই এখন সভাপতি! গোয়ালমারী বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক
২. ত্যাগীদের বাদ, বিতর্কিতদের পদোন্নতি—গোয়ালমারী বিএনপিতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
৩. যাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাকেই সভাপতি: দাউদকান্দি বিএনপির সিদ্ধান্তে প্রশ্নের ঝড়
৪. রেনু মুন্সিকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি, তৃণমূলে অসন্তোষ চরমে
৫. গোয়ালমারী বিএনপিতে রহস্যময় কমিটি: বহিষ্কৃত নেতা সভাপতি হওয়ায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি
বিশেষ প্রতিবেদন, দাউদকান্দি উপজেলা কুমিল্লা :
ত্যাগীদের উপেক্ষা, বিতর্কিতদের পুরস্কার? গোয়ালমারী বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন
দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির নবঘোষিত কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ১৫ জুন ২০২৬ ঘোষিত এই কমিটিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘদিন দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩ জুলাই ২০২৫ সালে গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদন করেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম। সে সময় সভাপতি করা হয় রায়হান উদ্দিন রেনু মুন্সিকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় মিজানুর রহমানকে।
কিন্তু কমিটি ঘোষণার দিন রাতেই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক তৎকালীন কৃষক দলের আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ হোসেন তালুকদারের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয় এবং মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেই মিজানুর রহমানকেই এবার গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যদি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে পুনরায় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে বসানোর যৌক্তিকতা কী? আর যদি বহিষ্কারই ভুল হয়ে থাকে, তবে তখনকার সিদ্ধান্তের দায়ভার কে নেবে?
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রায়হান উদ্দিন রেনু মুন্সিকে কোনো প্রকার আলোচনা, মূল্যায়ন বা সাংগঠনিক ব্যাখ্যা ছাড়াই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, শুধু রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নয়, ব্যক্তিগত অর্থায়নে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরও তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত দলীয় কর্মীদের মাঝে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এতে ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের পরিবর্তে অন্য কোনো বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একটি দলের সাংগঠনিক শক্তি নির্ভর করে তার তৃণমূলের ওপর। সেখানে যদি পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সরিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনে আনা হয়, তাহলে সংগঠনের ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নবঘোষিত কমিটি পুনর্বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, “দল কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। বিএনপির শক্তি তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে। সেই ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংগঠনই।”
বর্তমানে গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব কীভাবে দেয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।