লেবাননে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৭; হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে অনিশ্চয়তা বাড়ল
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
লেবাননে টানা সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিনের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চললেও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন বলে জানা গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা এটিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে তারা।
এদিকে চলমান উত্তেজনার কারণে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা আপাতত স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যৎ বৈঠকের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন তহবিল ও হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তিনি এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।