যুদ্ধবিরতির পর নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতি; শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :
ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৪ জুন) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এ অবস্থান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে দেশগুলোর নেতারা বলেন, “ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”
এর আগে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।” এর কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, সমঝোতার আওতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়। একই সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।