বিশেষ প্রতিবেদক, দাউদকান্দি কুমিল্লা : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কথিত কেন্দ্রীয় শিবির নেতা জিসানের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ, হত্যার হুমকি এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শনিবার বিকেলে উপজেলার শহীদনগর এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদনগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিচার ব্যবস্থার মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত বলে তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জিসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগ দেশজুড়ে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জিসানকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে দাউদকান্দিসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
উল্লেখ্য, জিসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শহীদনগর দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সরকার সেলিমসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ইলিয়টগঞ্জে সেলিম সরকারের নেতৃত্বেও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
নেতারা বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।