নিজস্ব প্রতিবেদক : জমির মালিকরা নিয়ম মেনে খাজনা দিতে আগ্রহী। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দেশের বিভিন্ন তহশিল অফিসে এখনো বিপুল সংখ্যক হোল্ডিং আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় নাগরিকরা চাইলেও অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার হোল্ডিং আবেদন ঝুলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমি সেবা সহজীকরণ ও জনগণের ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িক নির্দেশনা নয়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী ডিজিটাল সংস্কার জরুরি। অনলাইনে দলিল রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা গেলে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে অটো নামজারি এবং অটো হোল্ডিং সৃজনের ব্যবস্থা চালু করা হলে নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে খাজনা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
জনগণের প্রত্যাশা এখন একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত ভূমি প্রশাসন। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ভূমি খাতের এই সংস্কার কার্যকর হলে দুর্নীতি কমবে, সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে এবং রাজস্ব আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এখন দেখার বিষয়, ২৪ ঘণ্টার নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয় এবং দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ কত দ্রুত মুক্তি পায়।