বিশেষ প্রতিবেদন : ঢাকার দক্ষিণ সিটির ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের শনিআখরা থেকে মৃধাবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি আজ যেন অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার এক নীরব সাক্ষী। একসময় এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই খাল বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা, গবাদিপশুর বর্জ্য ও কঠিন বর্জ্যের স্তূপে প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালটির নিয়মিত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে খালের বিভিন্ন অংশে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কোরবানির পশুর ভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য খালে ফেলার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের উদ্বেগও বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়বে পুরো এলাকা। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয়ও দেখা দিতে পারে।
নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও কেন বছরের পর বছর এই খাল অবহেলার শিকার? দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাব কি এ সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে না?
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার কথা বলা হলেও বাস্তবে খাল রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি স্পষ্ট। তারা দ্রুত খাল পরিষ্কার, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, নিয়মিত তদারকি এবং স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বর্ষার আগে শনিআখরা-মৃধাবাড়ি খাল পুনরুদ্ধারে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে রাজধানীর এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে—এমন আশঙ্কাই এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।